সেলস কাকে বলে, কত প্রকার ও কী কী?
সেলস হচ্ছে মুনাফার উদ্দেশ্যে দুই পক্ষের মধ্যে অর্থের বিনিময়ে পণ্য বা সেবার যাবতীয় আদান প্রদানকে সেলস বলা হয়।
অর্থাৎ ৩ টি শর্ত
💟২ টি পক্ষ
💟অর্থের বিনিময়ে পণ্য বা সেবার আদান প্রদান
💟মুনাফার উদ্দেশ্য
সহজভাষায় মুনাফা মানে লাভ। অর্থাৎ ব্যাবসায়ে ব্যায়ের অতিরিক্ত যে আয় হয়েছে তা হচ্ছে মুনাফা।
একজন আদর্শ বিক্রয়কর্মীর গুণাবলি 👇
👉শারীরিক গুণাবলি:
১.সুদর্শন চেহারা
২.সুস্বাস্থ্য
৩.সুন্দর হাসি
👉মানসিক গুণাবলি:
৪.আগ্রহ ও আন্তরিকতা
৫.আত্মবিশ্বাস
৬.তীক্ষ্ণ বুদ্ধিমত্তা
৭.ধৈর্যশীলতা
👉নৈতিক গুণাবলি:
৮ .সততা ও বিশ্বস্ততা
!৯.মার্জিত ব্যবহার
১০.মেলামেশার ক্ষমতা
১১.জেন্ডার সচেতনতা
১২.ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি
👉অন্যান্য গুণাবলি:
১৩.শিক্ষা ও অভিজ্ঞতা
১৪.বিপনন সম্পর্কে জ্ঞান
১৫.হিসাবে পারদর্শিতা
সেলসম্যান বা বিক্রয়কর্মীর গুণাবলী গুলো ব্যাখ্যা করে দেখানো হলো 👇👇
👉ক্রেতার সাথে চোখে চোখ রেখে কথা বলা- একজন বিক্রেতাকে অবশ্যই ক্রেতার সাথে আই কন্টাক্ট করতে পারতে হবে, অর্থাৎ ক্রেতার চোখে চোখ রেখে কথা বলতে হবে। ক্রেতার চোখে চোখ রেখে কথা বললে ক্রেতার বাজেট সম্পর্কে বুঝতে পারা যায়।
👉ক্রেতাকে আপ্যায়ন করা- একজন বিক্রেতা কখনই ক্রেতার পোষাক পরিচ্ছদ বা আচরন দেখেই ক্রেতার বাজেট সম্পর্কে নিজে থেকে আন্দাজ করবে না। সকল ধরনের ক্রেতাকে খুব চমৎকারভাবে অতিথির মতন করেই আপ্যায়ন করতে হবে। ক্রেতার সাথে কুশল বিনিময় করা, পরিবার এর সবাই কেমন আছে জানতে চাওয়া, চা বা কফি খাওয়ানো এই বিষয়গুলো খেয়াল রাখতে হবে।
👉মনোযোগ সহকারে কাস্টমারের কথা শুনা- একজন বিক্রেতা প্রথমেই কাস্টমার এর কাছে পণ্যের গুণাবলী বলতে পারবে না। বিক্রেতাকে সবার প্রথমে খুব মনোযোগ সহকারে, অত্যন্ত ধৈর্য্য সহকারে ও আন্তরিকতার সাথে কাস্টমার কি চাচ্ছেন তা অর্থাৎ কাস্টমার এর সকল কথা শুনে নিতে হবে। কাস্টমার তার সকল কথা যখন বিক্রেতাকে সুন্দরভাবে বুঝিয়ে বলার সুযোগ পাবেন, তখন কথা বলতে বলতে এক পর্যায়ে বিক্রেতার প্রতি কাস্টমারের মন নরম হয়ে আসলে তিনিও বিক্রেতার সকল কথা শুনতে চাইবেন এবং এই বিক্রেতার কাছ থেকেই পণ্য কিনতে আগ্রহ বোধ করবেন।
👉জেন্ডার সচেতনতা- একজন বিক্রেতাকে নারী, পুরুষ, বৃদ্ধ, শিশু, প্রতিবন্ধী সকল ধরনের ক্রেতার সাথেই ভদ্র, ভালো ও মার্জিত ব্যবহার করতে হবে। কোন জেন্ডার এর ক্রেতা কিধরনের পণ্য কিনে, নারী পুরুষ ভেদে ক্রেতার চাহিদা কেমন বা নারী পুরুষ ভেদে কোন ধরনের ক্রেতা কিধরনের আচরন বিক্রেতার কাছে প্রত্যাশা করে এসব ব্যাপারে বিক্রেতাকে অবশ্যই সচেতন হতে হবে।
👉সুস্বাস্থ্য, সুদর্শন চেহারা ও সুন্দর হাসি- একজন বিক্রয়কর্মীকে কঠোর পরিশ্রম করতে হয়। তাই সুসাস্থ্যের অধিকারী না হলে সুন্দরভাবে কাজ করতে পারবে না। এছাড়া বিক্রেতার সুস্বাস্থ্য, সুদর্শন চেহারা ও সুন্দর হাসি ক্রেতাকে বিশেষভাবে আকৃষ্ট করে নিবে যার ফলে পণ্য বিক্রির সম্ভাবনা বেড়ে যাবে।
👉পণ্যের গুণাগুণ- একজন বিক্রয়কর্মীকে পণ্যের সকল গুণাগুন সম্পর্কে স্পষ্ট জ্ঞান রাখতে হবে।
👉উচ্চাকাঙ্ক্ষী হওয়া- একজন বিক্রেতাকে পণ্য বিক্রির ক্ষেত্রে উচ্চাকাঙ্ক্ষী হতে হবে। "আমার পণ্য সেরা পণ্য এবং আমি আমার পণ্যের সর্বোচ্চ বিক্রয় নিশ্চিত করতে পারব" এই উচ্চাকাঙ্ক্ষা একজন বিক্রেতার মধ্যে থাকতে হবে।
👉ভয় কাটিয়ে উঠা- কাস্টমার এর সাথে কথা বলার ক্ষেত্রে বিক্রেতার মধ্যে কোনো ভীতি থাকা যাবে না। যদি এধরনের ভীতি থাকে তবে তা কাটিয়ে উঠানোর জন্য নির্ভয়ে নিয়মিত প্রতিদিন প্রচুর কাস্টমার এর সাথে স্বাচ্ছন্দ্যে কথা বলা প্র্যাকটিস করতে হবে।
👉ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি- বিক্রেতার কাছ থেকে একজন ক্রেতা তার পণ্য বা সেবাটি গ্রহন করতেও পারে নাও করতে পারে। তাই ক্রেতার প্রত্যাখানে বিক্রেতার মনোক্ষুন্ন বা হতাশ হওয়া চলবে না।
👉আত্মবিশ্বাসী হওয়া ও জয়ী মনোভাব রাখা- একজন বিক্রেতার এই আত্মবিশ্বাস থাকতে হবে যে তিনি অবশ্যই তার প্রোডাক্টটি বিক্রি করবেন। 'বিক্রি করার চেষ্টা করব' - এধরনের মনোভাব একজন বিক্রেতার থাকতে পারবে না। বিক্রেতাকে সব সময় নিজের মাঝে জয়ী মনোভাব ধরে রাখতে হবে।
👉সমস্যা সমাধানে পারদর্শীতা ও আক্রমণাত্মক না হওয়া- একজন বিক্রেতা যেকোনো সমস্যা বা বিব্রতকর পরিস্থিতি বা ঝামেলা সুক্ষ্ম বুদ্ধির মাধ্যমে সামলাতে পারতে হবে। কখনই কোনো পরিস্থিতিতেই বিক্রেতা আক্রমণাত্মক হতে পারবে না।
👉মনোযোগী- একজন বিক্রেতাকে তার উপর অর্পিত দায়িত্বের প্রতি অত্যন্ত মনোযোগী ও দায়িত্বশীল হতে হবে।
👉সংযোগকারিতায় দক্ষতা- বিক্রেতাকে একজন সংযোগ স্থাপনকারী হিসেবে অত্যন্ত দক্ষ হতে হবে। অর্থ্যাৎ পণ্যটি বিক্রির পক্রিয়ায় যারা নিয়োজিত তাদের সকলের সাথে ক্রেতাকে সুষ্ঠুভাবে ও দক্ষতার সাথে পরিচয় করিয়ে দিতে হবে।
👉উদ্যমী ও কর্মপরায়ন- একজন বিক্রেতাকে অত্যন্ত উদ্দমী, কর্ম শক্তি সম্পন্ন ও কর্মপরায়ন হতে হবে। প্রয়োজনে অতিরিক্ত কাজ করতেও কোনো প্রকার কষ্টবোধ করবে না।
👉বাস্তব বুদ্ধিসম্পন্ন হওয়া- একজন বিক্রেতাকে শারিরীক ও মানসিকভাবে বাস্তববুদ্ধিসম্পন্ন হতে হবে।
👉নিয়মনিষ্ঠ- একজন বিক্রেতাকে কোম্পানির নিয়মকানুন মেনে কাজ করতে হবে।
👉সততা ও বিশ্বস্ততা- কাস্টমারকে পণ্য সম্পর্কে সম্পূর্ণ সঠিক ও সত্য তথ্য দিতে হবে। কোনোধরনের মিথ্যা কথা বলে পণ্য বিক্রি করলে, পরবর্তীতে ঐ কাস্টমার উক্ত বিক্রেতার কাছ থেকে আর কখনও পণ্য কিনবে না এবং কখনও কোনো রেফার কাস্টমারও এনে দিবে না। তাই সততা একজন বিক্রেতার অন্যতম প্রধান গুণাবলী। বিক্রেতার সততা ক্রেতার মনে বিক্রেতার প্রতি আস্থা ও নির্ভরশীলতা তৈরী করে এবং এতে করে ক্রেতা বিক্রেতার মাঝে দীর্ঘদিন এর সম্পর্কের সৃষ্টি হয়।
👉বিপনন সম্পর্কে সঠিক জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা এবং হিসাবে পারদর্শিতা- মুনাফার সঠিক হিসাব পেতে কত টাকার বিক্রয় হলো, কোন কোন পণ্যটি বিক্রি হলো এসব বিষয়ে একজন বিক্রয়কর্মীকে পারদর্শি হতে হবে। এছাড়া বিপনন সম্পর্কে প্রশিক্ষণমূলক বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করে বিক্রয় বিষয়ে সঠিক জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা অর্জন করে নিতে হবে।
👉ক্রেতার সাথে নিয়মিত যোগাযোগ রক্ষা করা- মনোযোগ সহকারে ক্রেতার সকল কথা দৈর্য্যসহকারে শুনে বাকপটুতা ও বিচক্ষণতার মাধ্যমে ক্রেতার সকল প্রশ্নের উত্তর দিতে হবে। কোনো প্রশ্নের উত্তর জানা না থাকলে সেটি পরবর্তীতে জেনে নিয়ে ক্রেতার সাথে পুনরায় যোগাযোগ করে ক্রেতার উক্ত প্রশ্নের উত্তরটি জানাতে হবে, এতে করে ক্রেতার মন জয় করা যাবে।
👉সুন্দর ব্যবহার ও সদাচারন- ক্রেতা খারাপ ব্যবহার করলেও বিক্রেতাকে সবসময় ক্রেতার সাথে খুব সুন্দর ব্যবহার এর মাধ্যমে ক্রেতার মন জয় করে নিতে হবে। বিক্রেতার ভালো আচরনে মুগ্ধ হয়ে ক্রেতা নিজেই তার ভুল বুঝতে পারবে। বিক্রেতার সুন্দর ব্যবহার ক্রেতা বিক্রেতার মাঝে দীর্ঘমেয়াদী সম্পর্ক তৈরীতে অন্যতম ভূমিকা পালন করে।
আসুন এবার পণ্য বিক্রীর কিছু কৌশল জেনে নিই👀
💆 Don't be a salesmen, be a sales consultant. অর্থাৎ কাস্টমার এর কাছে আপনার প্রোডাক্ট এর বর্ণনা না দিয়ে, কাস্টমার এর চাওয়া আর প্রয়োজন কি সেটা শুনতে হবে এবং কাস্টমার এর সাথে বসে পরামর্শ করতে হবে তার কি প্রয়োজন।
💆 কাস্টমার এর কাছে যাওয়ার আগে আপনি যা সেল করবেন সেই প্রোডাক্ট সম্পর্কে ভালোভাবে ডিটেইলস সব জেনে তারপরই কাস্টমার এর সামনে যেতে হবে। কখনও কাস্টমারকে বলা যাবে না যে, আমি জেনে জানাবো।
💆নিজের বডি ল্যাঙ্গুয়েজে সবসময় উৎসাহ উদ্দীপনা ধরে রাখতে হবে। দায়সারা ভাবে কাস্টমার এর সাথে কথা বললে রেজাল্ট আসবে না।
💆 আপনি পণ্য বিক্রির সময় ক্রেতার সাথে কিভাবে কথা বলছেন, ক্রেতার সাথে আন্তরিকতা তৈরী করে কিভাবে সাজিয়ে গুছিয়ে কথা বলতে পারছেন, আপনার পণ্যের গুণাগুণ কিভাবে ক্রেতার কাছে তুলে ধরছেন এসবের ওপর নির্ভর করছে ক্রেতা আপনার কাছ থেকে আপনার এই পণ্যটি কিনবে কিনা।
অর্থাৎ "কিভাবে" হচ্ছে এখানে সবচাইতে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। আপনার তৈরী এই "কিভাবে" যদি ক্রেতাকে মোহিত করে, তাহলেই ক্রেতা আপনার কাছ থেকে আপনার পণ্যটি কিনবে, যদি সেই মুহূর্তে তার পকেটে টাকা থাকে বা যদি ভবিষ্যতে তার পক্ষে পণ্যটি ক্রয় করার জন্য টাকা যোগাড় করার সামর্থ্য এবং ইচ্ছা বা প্রয়োজনীয়তা থাকে।
পণ্য বিক্রি করতে হলে কাস্টমারকে ভালোভাবে বোঝানোর উপর দক্ষ হতে হবে। পণ্য বিক্রির প্রথম ধাপই হলো কাস্টমারকে বোঝানো। কাস্টমারকে দুই ভাবে বোঝানো হয়, লজিক্যালি ও ইমোশনালি। দেখা যায় শুধুমাত্র লজিক্যালি বুঝিয়ে বিক্রি নিশ্চিত করা সবসময় সম্ভব হয় না, সাথে ইমোশনটাও যোগ করতে হয়। ইমোশনালি বোজানোটা অনেক বেশি শক্তিশালী। যেমন একজন ধুমপায়ী লজিক্যালভাবে বোঝেন যে, ধুমপান স্বাস্থ্যের জন্য কতটা ক্ষতিকর, কিন্তু তা জেনেও তিনি ধুমপান ছাড়তে পারেন না। কিন্তু ইমোশনালি বুঝতে পারলে, যেমন ধুমপান এর কারনে অকালে ফুসফুস ক্যান্সারে মৃত্যু হওয়া কোনো ব্যাক্তির স্ত্রী সন্তান এর আহাজারি দেখে তিনি ধুমপান ছেড়ে দিবেন।
ইমোশন খুবই শক্তিশালী বিষয়। কাস্টমারকে ইমোশনালি বোঝাতে পারলে পণ্যটির বিক্রি ১০০% নিশ্চিত হয়ে যায়।
কাস্টমার প্রথমে একটি পণ্য কেনার সিদ্ধান্ত নেয় ইমোশনালি, পরবর্তীতে লজিক্যালি চিন্তা করে পণ্যটির ক্রয় নিশ্চিত করে।
এবার আমরা জেনে নিবো কাস্টমারকে ইমোশলালি বোজানোর কয়েকটি উপায়।
কাস্টমার আপনার কাছে তার বিশেষ যে চাহিদা বা বিশেষ যে সমস্যার কথা বিশেষভাবে উল্লেখ করবে, কাস্টমারের সেই বিশেষ সমস্যাটিকে বা বিশেষ চাহিদাটিকে খুব গুরুত্বের সাথে নিয়ে কাস্টমারকে বোঝাতে হবে আপনার পণ্য বা সেবা গ্রহন করলে কিভাবে কাস্টমার তার এই বিশেষ সমস্যার সমাধান করতে পারবেন বা তার এই বিশেষ চাহিদা পূরন করতে পারবেন। তাই কাস্টমার নিজে থেকে না জানালেও বিভিন্নভাবে কথা বলে কাস্টমার এর বিশেষ কোনো সমস্যা বা বিশেষ কোনো চাহিদা খুঁজে বের করতে হবে।
কাস্টমার এর সাথে একাত্বতা প্রকাশ করতে হবে, অর্থাৎ কাস্টমার যখন আপনার কাছে কোনো সমস্যার উল্লেখ করবে, তখন আপনার কাস্টমারকে বোঝাতে হবে যে আপনি তার সাথে সহমত পোষন করছেন এবং আসলেই তার সমস্যাটি খুবই গুরুতর একটি সমস্যা।
কাস্টমার এর সমস্যার সমাধান আপনি কিভাবে করবেন এবং কাস্টমার এর চাহিদা আপনি কিভাবে পূরন করবেন তা খুব সুন্দর ও স্পষ্টভাবে কাস্টমারকে বুঝিয়ে বলতে হবে।
বিক্রির বিশেষ কিছু কৌশল-
👉সব সময় নতুন ক্রেতা তৈরীর প্রক্রিয়া চালু রাখতে হবে।
👉পুরনো ক্রেতার কাছে বিক্রি বাড়াতে হবে। পুরনো ক্রেতার কাছে তার আগের কেনা পণ্য আগের চেয়ে বেশি পরিমাণে বিক্রির পাশাপাশি তার কাছে কোম্পানির নতুন পণ্যও বিক্রি করতে হবে। এভাবে পুরনো ক্রেতার কাছে বিক্রি বাড়ানো যাবে।
👉+1 concept ফলো করতে হবে। অর্থাৎ ক্রেতার যেসব পণ্য কিনতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে, সেগুলোর সাথে ক্রেতাকে আরও একটি পণ্য কেনার জন্য আবদার স্বরুপ ভাষায় অনুরোধ করতে হবে।
👉রাউন্ড ফিগার concept ব্যবহার করতে হবে। অর্থাৎ ক্রেতা যদি ৯৮০ টাকার পণ্য কেনে, সেক্ষেত্রে ক্রেতাকে রাউন্ড ফিগার এর জন্য ২০ টাকার একটি পণ্য কেনার অনুরোধ করা।
👉ক্রেতাকে আপনার ব্যবহার, কথা বলার ধরন, পণ্যের গুনাগুন বোঝানো এসব দিয়ে এমনভাবে সন্তুষ্ট করুন, যাতে এই সন্তুষ্টি থেকেই ক্রেতা ভবিষ্যতেও সবসময় আপনার পণ্য কিনতে নিরাপদ ও আরামবোধ করে।
👉মনে রাখতে হবে যে কোনো পণ্য বা সেবা বিক্রির ক্ষেত্রে নিজেকে অন্য দশজন বিক্রেতা থেকে আলাদাভাবে এমনভাবে উপস্থাপন করতে হবে যেন ক্রেতা আপনার আচার-ব্যবহার ও উপস্থাপনাতে মুগ্ধ হয়ে আপনার পণ্য বা সেবাটিই কিনে।
দামি প্রোডাক্ট বিক্রির কৌশল:
দামি প্রোডাক্ট বিক্রির জন্য প্রথমত ক্রেতাকে পণ্যটি কেনার সিদ্ধান্ত নিতে সাহায্য করতে হবে। মানুষের মনস্তত্ত্ব অনুসারে ক্রেতা সামনে থাকা তিনটি অপশনের মধ্যে কাছাকাছি দামের দুইটি প্রোডাক্ট এর মধ্যে সবচেয়ে ভালো প্রোডাক্টটি কিনে নেয়।
বিক্রেতারা পণ্য বা সেবা বিক্রি করার সময় কয়েক ধরনের ক্রেতার মুখোমুখি হয়ে থাকেন। যথা :
দাম্ভিক ক্রেতা: এ ধরনের ক্রেতা একটু ভাব ধরে থাকে, বিক্রেতাকে একেবারেই পাত্তা দেয় না বা সম্মান দেখায় না। এদের কাছে পণ্য বিক্রী করতে হলে, আগে থেকে এদের পরিচিত মহল থেকে এদের সম্পর্কে জেনে নিতে হবে। এদের সাথে এদের আগ্রহের বিষয় নিয়ে কথা বলতে হবে।
আধুনিক ক্রেতা: এরা পণ্যের গুণাগুণ ও ব্র্যান্ড দেখে পণ্য কিনে, পণ্যের মূল্য তাদের কাছে মুখ্য নয়। তাই এদের কাছে পণ্য বিক্রি করতে হলে পণ্যটির গুণাগুণ ও ব্র্যান্ড সম্পর্কে বিস্তারিত জ্ঞান নিয়ে এই ক্রেতার সম্মুখীন হতে হবে এবং তার প্রত্যেকটি প্রশ্ন খুবই মনোযোগ সহকারে শুনে প্রত্যেকটি প্রশ্নের উত্তরে তাকে পর্যাপ্ত পরিমাণ সন্তুষ্ট বা খুশি করতে হবে।
সস্তা ক্রেতা: এসব ক্রেতার আগ্রহ পণ্যের মূল্য কেমন এ বিষয়ে, এরা পণ্যের গুণাগুণ সম্পর্কে জানতে আগ্রহ প্রকাশ করে না। এদের কাছে পণ্যের গুণাগুণ নিয়ে কথা বলা যাবে না, এদের সাথে পণ্যের দাম ও অফার নিয়ে কথা বলতে হবে, অর্থাৎ পণ্যটি কিনে উনি কি উপহার পাবেন, কি ধরনের এক্সট্রা সুযোগ সুবিধা পাবেন এবং পণ্যটির যে ভালো একটি ডিসকাউন্ট পাচ্ছেন এসব নিয়ে কথা বলতে হবে।
সাধারন ক্রেতা: এরা পণ্যের মান ও দাম সম্পর্কে কিছুই জানতে চায় না। এদের কাছে বিবেচ্য বিষয় হলো আপনার সাথে তার সম্পর্ক কেমন। আপনার সাথে যদি তার সুসম্পর্ক থাকে এবং তার হাতে টাকা থাকে তাহলে সে অবশ্যই আপনার কাছ থেকে পণ্যটি কিনে নিবে। অর্থাৎ এদের কাছে পণ্য বিক্রি করতে হলে এদের সাথে আপনার সুসম্পর্ক তৈরী করতে হবে।
ক্রেতার সাথে আন্তরিকতা তৈরী ও পণ্য বিক্রি করার দুইটি বিশেষ টিপস :
❤ক্রেতাকে নাম ধরে ডাকা: ক্রেতাকে বিশেষভাবে তার নাম ধরে ডেকে কথা বললে, তা ক্রেতার মনকে বিশেষভাবে নাড়া দেয়।
❤ক্রেতার সাথে সম্পর্ক স্থাপন: পণ্য বিক্রির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কৌশল হচ্ছে ক্রেতার সাথে সুসম্পর্ক স্থাপন করা। আপনি ক্রেতার সাথে সুসম্পর্ক তৈরীতে যত বেশি দক্ষতা অর্জন করবেন, আপনার সেলস ক্যারিয়ার তত বেশি উন্নতি লাভ করবে। পণ্য বিক্রি করতে হলে সকল ধরনের ক্রেতার সাথেই সুসম্পর্ক স্থাপন করতে হবে। ক্রেতার সাথে সুসম্পর্ক স্থাপন করতে ক্রেতার ব্যাক্তিগত জীবন যাপন সম্পর্কে, পরিবার সম্পর্কে, প্রফেশন সম্পর্কে ভালোভাবে জানতে হবে এবং ক্রেতার সাথে তার সুখের, দুঃখের, পছন্দের ও আগ্রহের বিষয় নিয়ে কথা বলতে হবে।
গিনেজ বুকে নাম উঠানো একজন বিক্রেতা সম্পর্কে জেনে নিই।
Joseph Samuel Girardi (November 1, 1928 – February 28, 2019)
Joe Girard নামে পরিচিত এই বিক্রেতা ১৯৬৩ থেকে ১৯৭৮ পর্যন্ত মাত্র ১৫ বছরে ১৩,০০১ টি গাড়ি বিক্রি করেছেন। অর্থাৎ তিনি তাঁর ১৫ বছরের ক্যারিয়ারে প্রতিদিন গড়ে ৬ টি করে গাড়ি বিক্রি করেছেন। এই বিক্রেতা ১৯৭১ সালে ১৪২৫ টি গাড়ি বিক্রি করে গিনেজ বুকে নাম উঠিয়েছেন।
তিনি তার সাফল্যের রহস্য সম্পর্কে বলেছেন, "আমি কখনও প্রোডাক্ট বিক্রি করি নি। আমি নিজেকে বিক্রি করেছি।" অর্থাৎ তার ফোকাস ছিল কাস্টমার এর কাছে নিজেকে একজন পছন্দনীয় ব্যাক্তি হিসেবে তৈরী করা। কাস্টমার এর সাথে তিনি দীর্ঘমেয়াদী সম্পর্ক তৈরী করতেন। কাস্টমারের বিবাহ বার্ষিকীতে, জন্মদিনে উইস করতেন। কাস্টমার এর সাথে বন্ধুত্বপূর্ণ দীর্ঘমেয়াদী সম্পর্কের কারনে এবং কাস্টমারের পছন্দের মানুষ হতে পারার যোগ্যতার৬ কারনে একজন কাস্টমার যতবার গাড়ি কিনেছেন তার কাছ থেকেই কিনেছেন এবং একজন কাস্টমার তার কাছে আরও প্রচুর রেফার কাস্টমার নিয়ে এসেছেন।
এছাড়াও তিনি ছিলেন অত্যন্ত মনোযোগী শ্রোতা। কাস্টমার এর সকল কথা তিনি প্রথমে অত্যন্ত আন্তরিকতার সাথে সম্পূর্ণ মনোযোগ সহকারে শুনে নিতেন, কাস্টমার এর কথার মাঝখানে কখনও তিনি কথা বলতেন না। তার সাথে প্রাণ খুলে কথা বলার সুযোগ পেয়ে কথা বলতে বলতে কাস্টমারের মন তার প্রতি নরম হয়ে আসত এবং এক পর্যায়ে কাস্টমার তার কাছ থেকেই পণ্য কিনতে আগ্রহ বোধ করতেন। অর্থাৎ তার টেকনিক ছিল, কথা কম বলা ও বেশি শোনা, এতে করে বিক্রি বাড়ে।
বিক্রি বাড়ানোর কিছু কৌশল -
👌নতুন কাস্টমার খুঁজতে হবে।
👌রেগুলার ক্রেতার কাছে আগের চেয়ে বেশি বিক্রি করা।
👌কাস্টমারকে পণ্যের ফ্রি সেম্পল দেয়া।
👌কন্টেন্ট মার্কেটিং করা।
👌ওয়েবসাইট এর seo করা।
👌বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দিবস গুলোতে পণ্যের মূল্য ছাড় দেয়া।
👌সহজ প্রতিযোগিতার আয়োজন করা।
👌অ্যাফিলিয়েট পার্টনার নিয়োগ করা।
👌নিয়মিত ভিডিও কন্টেন্ট ছাড়া।
সেলস এক্সিউটিভ পদে আবেদন করুন 👇
Comments
Post a Comment