গ্রাফিক শব্দের বাংলা অর্থ চিত্রলেখ আর ডিজাইন শব্দের বাংলা অর্থ নকশা। গ্রাফিক ডিজাইন হলো চিত্রলেখ এর মাধ্যমে নকশা তৈরি করা।
যেমন, লোগো, ব্যানার, ভিজিটিং কার্ড, আইডি কার্ড, বিজ্ঞাপন, ফ্লাইয়ার, লিফলেট, ব্রোশিয়ার।
প্রোডাক্ট এর প্যাকেজিং, টি শার্ট, বইয়ের প্রচ্ছদ, বইয়ের ইলাস্ট্রেশন, রেস্টুরেন্ট এর খাবার এর ম্যানুর ইলাস্ট্রেশন।
মোশন গ্রাফিক্স, যেকোনো গেম, এপ্লিকেশন ও ওয়েবসাইট এর UI ও UX ডিজাইন।
বর্তমান সময়ের ট্রেন্ড এর সাথে তাল মিলাতে হলে একজন গ্রাফিক ডিজাইনারকে অবশ্যই AI ও চ্যাটজিপিটি ব্যাবহারে অত্যন্ত দক্ষ হতে হবে। AI ও চ্যাটজিপিটি ব্যাবহার এর মাধ্যমে একজন গ্রাফিক ডিজাইনার অনেক সহজে অনেক চমৎকারভাবে তার কাজ করে নিতে পারবে। AI ও চ্যাটজিপিটি গ্রাফিক ডিজাইনারদের পেশার জন্য কোনো প্রতিবন্ধক নয়, বরং এগুলো হচ্ছে গ্রাফিক ডিজাইন এর কাজের জন্য খুবই চমৎকার সহায়ক কিছু অ্যাপ। AI এবং চ্যাটজিপিটির ব্যবহার একজন গ্রাফিক ডিজাইনারকে তার ক্যারিয়ারে আরও বেশি দক্ষ হয়ে উঠতে অনেক বেশি সহায়তা করবে।
গ্রাফিক ডিজাইন এর কাজের জন্য অন্যতম প্রধান সফটওয়্যারগুলো হলো এডোবি ফটোশপ, এডোবি ইলাস্ট্রেটর, কোরেল ড্র, ইন ডিজাইন, ক্যানভা।
গ্রাফিক ডিজাইন শিখতে হলে অবশ্যই ডেক্সটপ কম্পিউটার বা ল্যাপটপ (core i3/i5/i7 updated genaration, ram 4GB/8GB/16GB, hard disk 500GB/ 1Tera) থাকতে হবে।
শুরুর দিকে অত্যন্ত একাগ্রতার সাথে প্রচুর সময় ধরে প্রচুর অনুশীলন করতে হবে। প্রশিক্ষক এর গাইডলাইন নিঁখুতভাবে ফলো করার পাশাপাশি তার করানো কাজগুলো বার বার করে অনুশীলন করতে হবে। টুলস এর ব্যবহার ও বিভিন্ন কমান্ড গুলো খুব ভালো করে আয়ত্ত্বে আনতে হবে। এছাড়া যতটা বেশি সম্ভব প্রচুর পরিমাণে বিভিন্ন কোম্পানির লোগো, বিভিন্ন প্রোডাক্ট এর প্যাকেজিং, বিভিন্ন ওয়েবসাইট এর ইন্টারফেস, হাতে আসা যেকোনো ব্রোশিয়ার, লিফলেট, ফ্লাইয়ার, বইয়ের প্রচ্ছদ, বইয়ের ও রেস্টুরেন্ট এর খাবার এর ম্যানুর ইলাস্ট্রেশন, বিভিন্ন বিজ্ঞাপন, আইডি কার্ড ও ভিজিটিং কার্ড ইত্যাদি দেখে দেখে হুবহু বানানোর চেষ্টা করতে হবে। এভাবে প্র্যাকটিস এর মাধ্যমে ধীরে ধীরে কালার কনসেপ্ট ও ডিজাইন কনসেপ্ট অটো ক্লিয়ার হয়ে যাবে।
গ্রাফিক ডিজাইন শেখার শুরুতে অবশ্যই গ্রাফিক ডিজাইন এর সকল ক্যাটাগরিগুলোই প্র্যাকটিস করা উচিত। কিন্তু পরবর্তীতে সফল ক্যারিয়ার তৈরীর লক্ষ্যে যেকোনো একটি ক্যাটাগরি বেছে নিয়ে সেই ক্যাটাগরি ধরেই এগিয়ে যেতে হবে। যেমন আপনি ক্যারিয়ার তৈরীর লক্ষ্যে বেছে নিতে পারেন লোগো ডিজাইন বা ব্রোশিয়ার ডিজাইনকে। গ্রাফিক ডিজাইনের সকল ক্যাটাগরিতেই দক্ষ হয়ে উঠা অনেকটায় কঠিন, পাশাপাশি সফল ক্যারিয়ার তৈরীতে এটি সুবিধাজনক নয়।
এছাড়া সফল একটি ক্যারিয়ার এর জন্য অবশ্যই নিজের চমৎকার ইউনিক কাজগুলোর উপর ভিত্তি করে সুন্দর একটি পোর্টফোলিও তৈরী করে রাখতে হবে যা নিয়মিত আপডেট করে রাখতে হবে। পোর্টফোলিও এর প্রিন্ট কপি ও সফট কপি দুটোই তৈরী রাখতে হবে। Behance এর মত ওয়েবসাইটগুলোতে নিজের পোর্ট ফোলিও সাজিয়ে রাখতে হবে।
একই সাথে গ্রাফিক ডিজাইনার হিসেবে নিজের একটি পরিচিতি (ব্র্যান্ড) তৈরী করতে হবে। তাই গ্রাফিক ডিজাইনারদের ডিজিটাল মার্কেটিং সম্পর্কেও খুব ভালো জ্ঞান থাকা দরকার।
ক্যারিয়ার এর উন্নয়ন এর জন্য আরেকটি খুবই কার্যকরী টিপস কোনো একটি ডিজাইন এজেন্সিতে দীর্ঘদিন চাকরি করা। বিজ্ঞাপনী সংস্থা, ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট ফার্ম, টিভি মিডিয়া, প্রিন্ট মিডিয়াতে কাজ করে ভালো অভিজ্ঞতা সঞ্চয় করা যাবে। আমাদের দেশে এধরনের প্রতিষ্ঠানগুলোতে প্রচুর গ্রাফিক্স ডিজাইনার নিয়োগ দেয়া হয়।
ফ্রিল্যান্সিং সেক্টরেও ইন্টারন্যাশনাল মার্কেটপ্লেসগুলোতে (ফাইভার, আপওয়ার্ক, গ্রাফিক রিভার, নাইনটি নাইন ডিজাইন) গ্রাফিক্স ডিজাইনের অসংখ্য বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে প্রচুর কাজ পাওয়া যায়। তবে ফ্রিল্যান্সিং এর পাশাপাশি চেষ্টা করতে হবে কোনো একটি রিমোট জবে ফিক্সডভাবে জয়েন করে ফেলার জন্য।
এছাড়া নিজের ভালো একটি পরিচিতি তৈরী হলে এবং একই সাথে দীর্ঘদিন এর অভিজ্ঞতা সঞ্চয় এর পর নিজেই একটি গ্রাফিক ডিজাইন এজেন্সি চালু করা যেতে পারে।
আপনি যদি গ্রাফিক ডিজাইনে ক্যারিয়ার তৈরীতে আগ্রহী হয়ে থাকেন তবে নিচের নাম্বারে সরাসরি ফোনে বা whatsapp এ যোগাযোগ করুন
☎✉ 01791760980

Comments
Post a Comment