ফাইভার কী? ফাইভার হলো বিশ্বের খুবই জনপ্রিয় একটি ফ্রিল্যান্স মার্কেটপ্লেস।
মার্কেটপ্লেস কী? মার্কেটপ্লেস হলো যেখানে বেচাকেনা হয়। ফাইভার মার্কেটপ্লেসে সার্ভিস বেচাকেনা হয়। ফাইভারে বিভিন্ন কাজে দক্ষ মানুষেরা তাদের সার্ভিস দিয়ে থাকেন।
বিশ্বের বিভিন্ন দেশের বিভিন্ন কোম্পানি তাদের প্রয়োজনীয় সার্ভিসটি ফাইভার থেকে কিনে নেয়।
ফাইভারে একজন seller তার সময় ও স্কিল বিক্রি করে। একজন বায়ার payment এর মাধ্যমে তা ক্রয় করে।
ফাইভারে একাউন্ট খোলার পর আপনাকে প্রথমত আপনার স্কিল, পরিচয়, পোর্টফোলিও ইত্যাদি দিয়ে প্রোফাইল সাজাতে হবে। আপনি যে বিষয়ে কাজ করবেন সেরকম অন্যান্য সেলারদের প্রোফাইল প্রচুর সময় নিয়ে রিসার্চ করে পরবর্তীতে নিজের প্রোফাইলটি সাজালে ভালো হয়।
প্রোফাইল রেডি করার পরবর্তীতে গিগ করার মাধ্যমে আপনি কি ধরনের সার্ভিস দিবেন তা তুলে ধরতে হবে।
গিগ কী? মার্কেটপ্লেস যদি একটি বাজার হয় তবে গিগ হলো একটি দোকান। গিগ অবশ্যই খুব সুন্দরভাবে সাজাতে হবে, তাহলেই কাজ পাওয়া যাবে।
গিগ করার আগে গিগ রিসার্চ করতে হবে দীর্ঘ সময় নিয়ে। অর্থাৎ আপনি যে বিষয়ে গিগ করবেন, সে বিষয়ের অন্যান্য গিগ গুলো কেমন তা ভালোাবে রিসার্চ করে এরপর আপনার গিগ সাজাবেন।
গিগ পাবলিশ এর পরের বিষয়টি হলো ফাইবারে কাজের অর্ডার কিভাবে পাওয়া যায়? দুইভাগে পাওয়া যায়।
একটি হলো বায়ার সরাসরি ফাইবারে সার্চ করে আপনার সাথে যোগাযোগ করতে পারে।
অথবা বায়ার একটি পোস্ট করতে পারে যা আপনার কাছে আসলে আপনি বায়ারকে কাজটি করে দেয়ার প্রস্তাব দিবেন। আপনার প্রস্তাব যদি বায়ারের পছন্দ হয় সেক্ষেত্রে বায়ার আপনার যোগাযোগ করে পরবর্তী আলাপ করবে।
গিগ rank কীভাবে করাবেন? গিগটি কত বেশি অ্যামাউন্ট এর অর্ডার নেয়া হচ্ছে, কত বেশি অর্ডার আসছে এসব থেকেই গিগ rank করে।
এছাড়া ফাইভার শুধুমাত্র অ্যাক্টিভ সেলারদেরকেই প্রমোট করে।
আপনি ফাইভারে সবসময় অ্যাক্টিভ থাকলে আপনি সময়মত নোটিফিকেশন ম্যাসেজ গুলো পাবেন, এতে করে আপনার কাজ পাওয়ার সম্ভাবনাও বেড়ে যাবে।
বায়ার আপনাকে কাজের অর্ডার যখন কনফার্ম করে তখনই ফাইভারকে পেমেন্ট করে দেয়। পরবর্তীতে আমরা কাজটি সম্পন্ন করলে ফাইভার ২০% টাকা কেটে রেখে বাকি টাকা আমাদের অ্যাকাউন্টে শো করে।
তবে অ্যাকাউন্ট এ টাকা আসার ১৪ দিন পর টাকা তোলা যাবে। টাকা তুলতে হলে প্রথমত ফাইভার থেকে আপনার pioneer অ্যাকাউন্ট এ টাকা ট্রান্সফার করে নিতে হবে। এরপর pioneer অ্যাকাউন্ট থেকে নিজ ব্যাংক অ্যাকাউন্ট এ টাকা ট্রান্সফার করে নেয়া যাবে।
তবে ফাইভার অ্যাকাউন্ট করার আগে কোনো একটি বিশেষ কাজে ভালোভাবে দক্ষ হয়ে নিতে ভুলবেন না। আপনি যে কাজটি সবচেয়ে ভালোভাবে দক্ষতার সাথে করতে পারেন সেটির উপরই ফাইভারে গিগ করবেন।
ফাইভারে প্রচুর সেলার, প্রচুর গিগ, প্রতিযোগিতাও প্রচুর। তাই ফাইভারের প্রথম পেজে আপনার গিগ আসবে কিনা বা আপনাকে বায়ার মেসেজ করবে কিনা তা নির্ভর করছে আপনি সঠিক নিয়মে গিগের seo করেছেন কিনা তার উপর।
SEO হলো সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন, যেখানে কিছু কীওয়ার্ড ব্যবহার করে কোনো একটি ওয়েবসাইট বা সার্ভিসকে rank এ নিয়ে আসা হয়।
ফাইভার গিগ এর SEO মানে হচ্ছে একটি কৌশল যার মাধ্যমে একটি গিগকে সার্চ রেজাল্ট এর সবচেয়ে উপরে নিয়ে আসা হয়, যাতে সহজে অর্ডার পাওয়া যায়।
ফাইভার গিগ এর SEO কীভাবে কাজ করে? ফাইভার গিগ SEO হয় গিগটির দৃশ্যমানতা ও ranking উন্নত করার মাধ্যমে যাতি গিগটি সার্চ রেজাল্টে সহজেই সবার উপরে আসে।
ফাইভার গিগ SEO এর বিভিন্ন ধাপ রয়েছে।
প্রথমত খেয়াল রাখতে হবে গিগ এর টাইটেল ও ডেসক্রিপশন দেখে যাতে সহজেই বুঝা যায় আপনি কি সার্ভিস দিচ্ছেন।
গিগের seo এর ক্ষেত্রে গিগ এর টাইটেল ও ডেসক্রিপশন এ তিন থেকে চারটি বাছাই করা কীওয়ার্ড ব্যবহার করতে হবে। এমন কীওয়ার্ড বাছাই করতে হবে যে কীওয়ার্ড দিয়ে বায়ার সার্চ করবে তবে কীওয়ার্ডগুলো বেশিরভাগ গিগে তেমন একটা ব্যবহৃত হয় নি। গিগকে rank করাতে কীওয়ার্ড রিসার্চ খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। Keyword research is very important factor in ranking gigs.
বাছাইকৃত কীওয়ার্ড গিগ এর ডেসক্রিপশন এর শুরুতে, মাঝখানে এবং শেষে তিন জায়গায় ব্যবহার করতে হবে। গিগ এর জন্য বাছাই করা নির্দিষ্ট কীওয়ার্ডগুলোর প্রত্যেকটিকে সম্পূর্ণ গিগ এর টাইটেল ও ডেসক্রিপশন সহ প্রত্যেকটি ধাপে ৩ বার এর অধিক ব্যবহার করাকে বলা হয় কীওয়ার্ড ডেনসিটি। কীওয়ার্ড ডেনসিটি গিগকে rank করাতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
গিগ এর এর আর একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো ট্যাগ। পাঁচটি ট্যাগ দিবেন এবং সেখানে আপনার গিগটির জন্য বাছাই করা কীওয়ার্ড গুলোই দিবেন।
ফাইভার গিগ SEO এর অফ পেইজ seo এবং অন পেইজ seo এই দুইটি ভাগ রয়েছে। অন পেইজ seo হলো গিগ এর টাইটেল, ট্যাগ, ডেসক্রিপশন, ইমেজ এগুলোর কীওয়ার্ড সঠিকভাবে ব্যবহার করা।
আর অফ পেইজ seo হলো গিগটিকে linktree, linkedin, pinterest ইত্যাদি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করা, ইমেইল মার্কেটিং করা যাতে গিগটিতে ক্লিক পড়ে। গিগে যত বেশি ক্লিক পড়বে ফাইভারের অ্যালগরিদম গিগটিকে তত বেশি গুরুত্বপূর্ণ মনে করবে এবং গিগটিকে সার্চ রেজাল্ট এর প্রথম পেজে নিয়ে আসবে।
এরপর গিগ এর seo এর জন্য আর একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো ক্লায়েন্ট এর ফিডব্যাক এবং রেটিং। তাই ক্লায়েন্টকে সন্তুষ্ট করে তার কাছ থেকে ভালো ফিডব্যাক, কমেন্ট ও রেটিং নিতে হবে যা আপনার গিগকে সার্চ রেজাল্ট এর প্রথম পেজে আনতে সাহায্য করবে।
গিগ rank করার জন্য গ্যালারি সেকশনে অবশ্যই ৩ টি ইমেইজ এবং একটি ভিডিও দিতে হবে। ভিডিও rank করতে সাহায্য করে।
আর একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো কুইক রেসপন্স এবং টাইমলি ডেলিভারি। বায়ার নক করলে বায়ার কে অবশ্যই সাথে সাথে রেসপন্স করতে হবে এবং সম্পূর্ণ প্রফেশনাল ভাষায় বায়ার এর সাথে কথা বলতে হবে। একই সাথে সঠিক সময়ে কাজ ডেলিভারি দিতে হবে। কুইক রেসপন্স এবং টাইমলি ডেলিভারি গিগকে rank করাতে অতিব গুরুত্বপূর্ণ।
এবার আরেকটু বিস্তারিত আলোচনা করা যাক গিগ এর SEO নিয়ে।
টাইটেলের seo এর ক্ষেত্রে কীওয়ার্ড রিসার্চ করতে হবে। টাইটেলে তিন থেকে চারটি কীওয়ার্ড দেয়া যায়। যেমন ফেসবুক বিষয়ে গিগ হলে ফেসবুক নিয়ে চারটি কীওয়ার্ড খুঁজে নিতে হবে, যেগুলো অতীতে অপেক্ষাকৃত কম সংখ্যক গিগে ব্যবহৃত হয়েছে। যেসব কীওয়ার্ড দিয়ে সার্চ করলে দশ হাজার কম রেজাল্ট শো করে এমন কীওয়ার্ড খুঁজে বের করতে হবে যেগুলো মেইন কীওয়ার্ড হিসেবে ব্যবহৃত হবে। যেমন facebook ads, instagram ads এর সার্চ রেজাল্ট এর তুলনায় Meta ads সার্চ রেজাল্ট অনেক কম আসে।
টাইটেল এর জন্য একটি বা দুইটি সাব কীওয়ার্ড বাছাই করতে হবে যেগুলোর সার্চ রেজাল্ট বেশি কিন্তু কীওয়ার্ড গুলো জনপ্রিয়। পাশাপাশি ২-৩ টি সাব কীওয়ার্ড বাছাই করতে হবে। যখন গিগ এর ক্লিক অনেক বেশি আসবে তখন এই সাব কীওয়ার্ডগুলোও গিগকে rank করাবে।
টাইটেল এর সামনের অংশে I will do বা I will setup এভাবে লিখতে হবে, তবে এটা কীওয়ার্ড নয়। কীওয়ার্ড হিসেবে বায়ার কী লিখে সার্চ করে সেগুলো খুঁজে বের করতে হবে। I will do বা I will setup লিখে এরপর মেইন কীওয়ার্ড ও সাব কীওয়ার্ড গুলো বসাতে হবে।
উপরের নিয়মেই SEO মেইনটেইন করে একটি নতুন Gig এর টাইটেল রেডি করতে হবে।
ট্যাগ গিগকে rank করাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। ট্যাগ টাইটেল অনুসারে বানাতে হবে। অর্থাৎ টাইটেল এ যে কীওয়ার্ড গুলো দেয়া হয়েছে সেগুলো ট্যাগ এ দেয়া হবে। এছাড়া একই টপিক এর অন্যান্য গিগ এর ট্যাগ এনালাইসিস করে নিশের সাথে মিলিয়ে কয়েকটি ট্যাগ বানাতে হবে।
Comments
Post a Comment